প্রিয় ৮ম ব্যাচ (বিটেক),
ক্লান্তিহীন ভালালাগার ও বাধহীন আনন্দের একটা দিন গেল আজ তোমাদের। দীর্ঘ ৪ বছরের সাধনার শেষে আজ তোমাদের রেগ ডে’র প্রথম দিন গেল!!! লাল, নীল, আসমানী, সবুজ, হলুদের ভিরে টেরেই পাওনি জীবনের সবচেয়ে মধুর দিনটি আজ পার করে দিলে!!! জীবনে হয়ত এর চেয়ে অনেক আনন্দের দিন সামনে পাবে, কিন্তূ সে গুলো আসবে ব্যক্তি বা পারিবারিক পর্যায়ে। সমস্টিকগত আনন্দের আজেই হয়ত শেষ। এমন উচ্ছ্বাস কি আর কখনো ফিরে পাবে??????? আজকের কালার ফেস্টিভাল কি আগামীকালের দুঃখ ভুলিয়ে দিতে পারবে!!!! আগামীকাল হয়ত অনেকেই মুখ আড়াল করে কাঁদবে!!! এটাই স্বাভাবিক। দীর্ঘ চার বছরের হিসাব!!! এই চার বছর শুধু একটা সংখ্যা নয়। একজন মানুষের জীবনের শ্রেষ্ঠ চার বছর!!! তারুণ্যের চার বছর!!!!!
কত স্মৃতি তাই না????? অনেকেই হয়ত ইতোমধ্যে এখানে ভর্তি হওয়ার দিন থেকে আজকের দিন পর্যন্ত সকল স্মৃতি মনে করে নিজের অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলছ, কেউবা কাদছ!!! কেন এমন হয়!!! কত মধুর সম্পর্কই না হয়েছে এখানে। শুধু মানুষের সাথেই নয়, এই কলেজের প্রতিটা ইট পাথরের সাথে সম্পর্কের ইতি হতে যাচ্ছে!!!!!! যে ৪ টা বছর এক সময় কিভাবে পার হবে সেই চিন্তায় আস্থির ছিলে আজ যখন সব তোমার ইচ্ছা মতই সব ঠিকঠাক ভাবে শেষ হলো তখন তুমি নিজেই হিসাব করছ এত তাড়াতাড়ি কিভাবে দিন গুলা শেষ হয়ে গেল!!!! হয়ত মনে হচ্ছে আরো এক দুইটা মাস যদি থেকে যেতে পারতাম!!!!!
এটাই হচ্ছে কনফ্লিক্ট অব ইন্টারেস্ট!!!!!! এই বিদায়টা অতিপ্রয়োজনীয় এবং একই সাথে হৃদয়বিদারক!!!! আনন্দ-বেদনার মিথস্ক্রিয়া এর চেয়ে ভাল উদাহরণ হয়ত আর নেই!!!! ছেড়ে যেতে হচ্ছে স্বার্থের প্রয়োজনে আর থাকতে ইচ্ছা হচ্ছে আবেগতাড়িত হয়ে!!!! কাউকে বাদ দিতে পারা যায় না!!! আবেগকে করুণা করলে জীবন থেমে থাকবে! আবার আল্লাহ্ তা’য়ালা খুব সুক্ষভাবেই পরিকল্পিতভাবে আবেগ নামক একটা অদৃশ্য জিনিস আমাদের মাঝে দিয়ে দিয়েছে!!!! যা অস্বীকার করার ক্ষমতা আমাদের দেন নি!!!!
তবে একটা জিনিস কি জান????? যে পথে তোমরা এসেছিলে সে পথে আমরাও এসেছিলাম একদিন। আবার যে পথে তোমরা যাচ্ছ এটাতো আমাদেরেই দেখানো পথ!!!! তাহলে ভয় কি???? জীবনের প্রয়োজনেই এসেছিলে আবার জীবনের প্রয়োজনেই চলে যেতে হচ্ছে। এই ক্ষনিকের মুহুর্তটাতে নিজেকে ভবিষত্যের জন্য তৈরি করে নেওয়ার কাজটা করাই ছিল মুল লক্ষ্য।
তোমাদেরকে আমি পেয়েছি প্রায় তিন বছর!!!!!! এই তিন বছরের অনেক অম্ল-মধুর স্মৃতি ভুলতে ভুলতে চলে আসবে আরও একটা ব্যাচকে দিবার সময়!!!!!!!!!!! আমাদের এই যন্ত্রণা কি একদিনের!!!!! প্রতিবছর একটা একটা ব্যাচ যাবে আর আমাদেরকে একইভাবে বিদায়ের সাহস দিয়ে যেতে হবে!!!!! এই শিক্ষকতার এই এক যন্ত্রণা!!!!! সকল আবেগকে পাশে ঠেলে প্রস্তুত হতে হয় নতুনদের জন্য!!!! এ কস্ট কিভাবে ভুলি বলতে পার????
গত তিন বছরে হয়ত সবচেয়ে বেশি ধমক খেয়েছ আমার কাছ থেকে!!!!! হয়ত সব সময় শাসন করেছি!!!!! শাসনের আড়ালে ভালবাসাটা কি কখনোও টের পেয়েছ???? একজন শিক্ষকের কাছে এক একটা ব্যাচ এক একটা শিল্প!!! শিল্পী যেমন প্রতিবারেই চায় তার আগের শিল্পের থেকে ভাল কিছু তৈরি করতে, আমরাও সে চেষ্টা করেছি সব সময়। হয়ত সব সময় তোমাদের সকল আশা পুর্ন করতে পারিনি, তবে ইচ্ছার কোন অপুর্নতা ছিল না!
এখন থেকে তোমাদের পরিচয় তুমি একজন “বিটেকিয়ান”। সন্তানের ভাল খারাপ ব্যবহারের দায়ভার যেভাবে পরিবারের উপর বর্তায়, তেমনি তোমাদের সাফল্য এবং ব্যার্থতার দায়ভার আমাদের উপরেই আসবে। তোমার সাফল্যে আমরা গর্বিত হব আবার তোমার ব্যার্থতায় আমরা কস্ট পাব। নিজে সফল হয়ে বিটেককে সম্মানীত করবে এটা আমাদের দাবী। একটা জিনিস মনে রাখবে, যে বয়সে তোমরা জীবন যোদ্ধে যাচ্ছ সেখানে কেউ হারবে না যদি তোমার একাগ্রতা থাকে। ইচ্ছাশক্তি সকল অসম্ভকে সম্ভব করার ক্ষমতা রাখে। আমাদের দোয়া ও ভালবাসা সবসময় তোমাদের সাথে থাকবে।
যে গর্বিত বাবা-মার জন্য আজ তুমি একজন ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বের হয়ে যাচ্ছ সেই বাব-মাকে কোন প্রতিকূলতাতেই ভুলে যেয় না। দেশ তোমার পিছনে অনেক টাকা ইনভেস্ট করেছে। একজন প্রকৃত মানুষ হয়ে দেশের সেবা করবে। কোন অবস্থাতেই, ক্ষনিকের মোহে পথভ্রষ্ট হয়ো না। জীবন খুব সুন্দর!!!!! এর সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য খুব বেশি অর্থের দরকার নেই। তোমার রিযিকে যা লিখা আছে সেটা নিয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হবে। অন্যকে সম্মান করতে কখনো দ্বিধা করো না। শত প্রতিকূলতাতেও একজন ভাল মানুষ হওয়ার চেস্টা থেকে নিজেকে বিরত রেখো না।
জীবনে সফল হও। ভাল থেকো, ভালবাসা নিও।
এ এস এম জুনাইদ হাসান
প্রভাষক (টেক্সটাইল)
বঙ্গবন্ধু টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ,
কালিহাতী, টাঙ্গাইল।
1